খোলা মত

কন্যা সন্তান সৌভাগ্যের প্রতীক : প্রমাণ বঙ্গবন্ধু কন্যা

  জাগো নরসিংদী ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ , ৯:০১:পূর্বাহ্ণ অনলাইন সংস্করণ

নূরুদ্দীন দরজী

সাধারণত বলা হয়ে থাকে কন্যা সন্তান সৌভাগ্যের প্রতীক। আমার মনে হয় সমগ্ৰ বিশ্বে তার প্রমাণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশের স্বপ্নের রূপকার, উন্নয়নের যাদুকর এবং আপামর জনগণের ভরসা স্হল। বঙ্গবন্ধুর আদরের এ কন্যা সৌভাগ্যের প্রতীক রূপে আজ বাঙালি জাতির সৌভাগ্য ও শুভ দিন ফিরিয়ে এনেছেন। কন্যা সন্তান যে সৌভাগ্যের প্রতীক তাঁর চেয়ে বড় প্রমাণ বিশ্বে খুবিই বিরল। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণমানুষের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত আদরের কন্যা ছিলেন। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একান্ত প্রেরণার উৎস। জন্মের পর থেকেই তাঁর প্রিয় কন্যা পিতা বঙ্গবন্ধুকে সরবে ও নিরবে অনুস্মরণ করতেন। পিতার আদর্শের পথে চলতে চলতে কন্যা শেখ হাসিনা পেয়েছেন পিতার‌ই আপন রূপ।

১৯৭৫ সালে বিশ্বাসঘাতকের পেতাত্মারা সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নৃসংশ ও নির্মমভাবে হত্যা করলে কন্যা শেখ হাসিনা হয়ে পড়েন দিক বিদিক জ্ঞান শূন্য। পিতার শোকে মূহ্যমান তাঁর চোখের পানি ঝরেছে কত না দিবস-রজনী। কিন্তু পিতার এ সুযোগ্য কন্যার মনে ছিল পিতার আদর্শের কথা। তিনি জানতেন তাঁর পিতা ছিলেন সাদা মনের মানুষ -যার বুক ভরা ভালোবাসা ছিল শুধুই বাংলার মানুষের জন্যে। পিতার ভালোবাসা ও আদর্শ কন্যার জন্য হয়ে উঠেছিল প্রেরণার আধাঁর।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথে চলে তাঁর নীতিকে বুকে ধারণ করে এবং জীবন বাজী রেখে কন্যা হেঁটেছেন অনেক দীর্ঘ পথ। নিয়ত ও চিন্তা যদি সঠিক ও সুন্দর হয় আর সেটি যদি হয় মানুষের কল্যাণে তা কোনদিনই বিফল হয়না,বৃথা যায়না। বঙ্গবন্ধুর আজীবন লালিত স্বপ্নই ছিল এ দেশের মানুষকে শৃঙ্খল মুক্ত করা, পরাধীনতার গ্লানি মুছে দেওয়া। ফিরিয়ে আনা বাঙালির হাজার বছরের হারানো গৌরব। উদ্ধার করা তাদের অর্থনৈতিক মুক্তি। পরাধীনতার গ্লানি মুছিয়ে তিনি যখন অগ্ৰসর হয়েছিলেন অর্থনৈতিক মুক্তির পথে তাঁকে হত্যা করে ধুলিসাৎ করা হয় সকল স্বপ্ন।অ তপর অনেক ত্যাগ স্বীকার করে শেখ হাসিনাকে হাল ধরতে হয়। অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে ধীরে ধীরে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশকে নিয়ে গেছেন উন্নয়নের চরম শিখরে।

আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন মানেই শেখ হাসিনা,বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ঠিকানা। উন্নয়নের জন্য যে শেখ হাসিনার ঠিকল্প নেই এ কথাটি বুঝে গেছেন বাংলাদেের সকল মানুষ। পিতা দিয়েছেন রাজনৈতিক স্বাধীনতা,তাঁর সুযোগ্য কন্যার হাতে আসছে অর্থনৈতিক মুক্তি। এ কন্যার হাত ধরে দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে আমাদের মাথাপিছু আয়। জিডিপি যাচ্ছে দ্রুত এগিয়ে এবং প্রসারিত হচ্ছে বিভিন্ন অর্থনীতির সূচক। সেই অতীতের তথাকথিত তলাবিহীন ঝুড়ি আজ হাস্য রসে পূর্ণ।

বিশ্ববাসী আজ মুখরিত বাংলাদেশের জয়গানে। বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতিটি পদক্ষেপই বিধাতার আর্শীবাদপুষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে যায় উজ্জ্বল ভাগ্য উন্নয়নের সূচকে। শেখ হাসিনা আজ মুক্তিযুদ্ধের সুফল চেতনা, বাঙালি জাতি সামনে এগিয়ে চলার পাথেয়,অদম্য উৎসাহ আর আলোক বর্তিকা। শেখ হাসিনা থেকে প্রেরণা পেয়ে সকল পিতার কন্যাদের জীবনে আসুক সফলতা।

সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন আমাদের এ প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ চলে যাবে তাবৎ দুনিয়ার এক নম্বর দেশের সারিতে। বঙ্গবন্ধুর সৌভাগ্যবতী এ কন্যার চিন্তা চেতনা ও বুদ্ধিমত্তা দিনে দিনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের চূড়ান্ত সীমানায়। মহান রাব্বুল আলামিন বাঙালির প্রযোজনে, কোটি কোটি মানুষের বাংলাদেশের উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দীর্ঘজীবী করুন তাঁর ৭৫তম শুভ জন্মদিনে শুধুই এ কামনা।

লেখক : সাবেক উপজেলা শিক্ষা অফিসার (টিইও)