1. jagonewsnarsingdi@gmail.com : nurchan :
বুধবার ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১২:৫২

দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকে মুক্তির উপায়

  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২১
  • ১৫৩ বার

ডা. রফিক আহমেদ

সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি তিনজনে একজন দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হন। সারা বিশ্বে লাখো কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। যেমন- হাঁপানি, ডায়াবেটিস, মাইগ্রেন, উচ্চরক্তচাপ, বাত-ব্যথা, ডিসেন্ট্রি, আইবিএস (ইরিটেবল বাউয়েল সিন্ড্রম)। আমরা এ কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, যেসব রোগী জরুরি বিভাগে সংকটাপন্নাবস্থায় চিকিৎসার জন্য আসেন, তাদের দ্রুত চিকিৎসাব্যবস্থায় যথেষ্ট উন্নতি সাধন হয়েছে। যেমন- হার্ট অ্যাটাক, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, হেড ইনজুরি প্রভৃতি। তবে দীর্ঘস্থায়ী রোগীদের চিকিৎসায় তেমন একটা উন্নতি দেখা যায় না।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, যখন একজন রোগী দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ে আসেন, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা করা বেশ সমস্যার সৃষ্টি হয়। কারণ এ রোগগুলো সারা জীবনের রোগ, যা বহন করেই চলতে হয়। প্রতিকার নেই, প্রতিরোধই চিকিৎসা। রোগমুক্ত নয়, বরং উপসর্গমুক্ত থাকাই চিকিৎসা। একজন হার্ট অ্যাটাকের রোগী যখন জরুরি বিভাগে আসেন, তখন প্রতিটি সেকেন্ড তার বাঁচার সম্ভাবনাকে হত্যা করতে থাকে। পক্ষান্তরে অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, মাইগ্রেন প্রভৃতি রোগ নিয়ে যখন চিকিৎসকের কাছে আসেন, তখন চিকিৎসক নিজেই হতাশ হয়ে পড়েন- এ কারণেই যে, তিনি রোগীর উপসর্গ কমিয়ে দিতে পারবেন, কিন্তু রোগমুক্ত করতে পারবেন না।

যে কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত রোগীই ধীরে ধীরে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তারা সব সময় পৃথক থাকতে চেষ্টা করেন। তাদের সমস্যার কথা গভীরভাবে কেউই বিবেচনার সঙ্গে গ্রহণ করেন না। তারা মনে করেন, স্বাভাবিক জীবন তারা আর ফিরে পাবেন না। দিন যতই যেতে থাকে, তারা ততই আশাহত হতে থাকেন। বিষণ্নতা ও উদ্বিগ্নতায় আক্রান্ত হন। দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণে মানসিক রোগের উৎপত্তি হলে সেটা আরও বিপজ্জনক। এলিজাবেথ লেন্ডসি-ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী রোগীদের নিয়ে গবেষণা করে যে তথ্য দেন তা হলো তারা অনেকেই নিজেদের নিরোগ মনে করেন। প্রফুল্ল ও তুষ্ট থাকেন। যদিও তারা শারীরিকভাবে অক্ষম। তিনি গবেষণায় আরও দেখতে পান, এ স্তরের মধ্য দিয়ে অবস্থান করেন- দীর্ঘদিন সুস্থও থাকেন।

দীর্ঘস্থায়ী রোগীরা সুস্থ জীবনযাপনের জন্য বহুবিধ চিকিৎসার শরণাপন্ন হতে চেষ্টা করেন। যেমন আকুপাংচার, মালিশ, যোগ সাধন, ধ্যান ইত্যাদি। অনেক চিকিৎসকই দীর্ঘস্থায়ী রোগীদের চিকিৎসায় বিষণ্নতা প্রতিরোধী ওষুধ দেন এটা দুঃখজনক। প্রকৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই, তাদের মেজাজ মর্জি না জেনেই। বরং তারা যদি রোগীর প্রকৃত তথ্য জেনে তার প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতেন সেটিই হতো উত্তম।

পরিবারে যদি একজন দীর্ঘস্থায়ী রোগী থাকেন, পরিবারের অন্য সদস্যরা চার গুণ বেশি বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন। অর্থাৎ পরিবারের সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি এবং যদি তারা নিজেদের শরীরের প্রতি অধিক যত্নশীল না হন, যে কোনো সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

উপযুক্ত পরামর্শই পারে এ ধরনের বিপত্তি থেকে রক্ষা করতে। ক্রনিক রোগ আক্রান্ত রোগীরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।

দীর্ঘস্থায়ী রোগীদের জন্য ১০টি বিধান নিচে বর্ণিত হলো-

নিজেই নিজেকে ভালোবাসুন : স্মরণ রাখবেন, আপনার রোগ আপনি কে তা দেখবে না; আপনি মূল্যবান কোনো অবদান রাখছেন, সে অবদানকে কেউ প্রতিহত করবে না।

আপনার চিকিৎসককে ভালোবাসুন : আপনাকে কেউই ভালো করতে পারবে না, এমন বদ্ধমূল ধারণা মোটেই মনের মধ্যে পোষণ করবেন না। এমন একজন চিকিৎসককে খুঁজে বের করুন যিনি আপনার মনের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনবেন, আপনাকে আশার আলো দেখাবেন এবং আপনাকে নিরুৎসাহিত করবেন না।

আপনি একজন বিশেষজ্ঞকে দেখান : যিনি আপনার রোগ সম্পর্কে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করবেন; নিশ্চিত করবেন, আপনি তার চিকিৎসায় উপকৃত হবেন।

আপনি নিয়মিত লাইব্রেরিতে যাবেন : সম্ভব হলে ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন, আপনার রোগের বিষয়ে সর্বশেষ চিকিৎসা, ভালো-মন্দ সব কিছুই জানতে চেষ্টা করুন।

বন্ধু খুঁজুন : যারা আপনার রোগের রোগী এমন লোকের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। আপনার ভালো-মন্দ তাকে বলুন, তার মতামত জানুন। যে কোনো বিপদ সম্বন্ধে সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। রোগ নিয়ে চিন্তাযুক্ত না থেকে চিন্তামুক্ত থাকুন; সময়ের সঙ্গে হঠাৎ করেই একদিন আপনি উপসর্গমুক্ত হতে পারেন।

মন-মেজাজ ঠান্ডা রাখুন : উত্তেজনা প্রশমনের পথ খুঁজে বের করুন- নিত্যদিনের কাজকর্মে সেটা ব্যবহার করুন। মেডিকেল রেকর্ড সংরক্ষণ করুন; কবে, কোথায়, কেন, কোন চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন- চিকিৎসার জন্য তার ধারাবাহিকতা সংরক্ষণের জন্য ফাইল তৈরি করুন, কোন চিকিৎসায় কেমন ফল পেয়েছেন- সেটাও লিখে রাখুন।

নিজ স্বার্থের দিকে লক্ষ রাখুন : আপনি যদি একজন ক্রনিক রোগীর সেবায় নিয়োজিত থাকেন, তবে তাকেই কেবল সেবা করবেন না নিজের শরীরের প্রতিও যত্নশীল হোন।

লেখক : বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, সহকারী অধ্যাপক, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
আরো খবর.
© জাগো নরসিংদী ২৪ আইটি সহায়তাঃ সাব্বির আইটি
Customized By BlogTheme