নরসিংদীর খবর

পলাশে মানবাধিকার সংগঠনের সভাপতিকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

  জাগো নরসিংদী ১২ জানুয়ারি ২০২২ , ৪:১০:অপরাহ্ণ অনলাইন সংস্করণ

নাসিম আজাদ

নরসিংদীর পলাশে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইট এন্ড প্রেস সোসাইটির সভাপতি ও পলাশ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন আনুকে সোমবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর দুইটার সময় উপজেলা চত্বরে দলিল লেখক কার্যালয়ে সকাল সন্ধ্যা সুপার মার্কেটের সাবেক সভাপতি, ঘোড়াশাল পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটির সম্ভাব্য সভাপতি কাইয়ুম মোল্লা গলা কেটে হত্যা করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন অনেকে।

এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন আনু জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঘটনার পরের দিন মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পলাশ থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন।নং ৪৯৮। সরজমিনে গিয়ে ঘটনার বিবরণে জানা যায় প্রায় ১১ বছর পূর্বে প্রবাসী এনামুল হক কিরন কাইয়ুম মোল্লার মাধ্যমে সকাল সন্ধ্যাসুপার মার্কেট এলাকায় ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন দলিল দাতা এজাজের নিকট হইতে যার মুল্য নির্ধারণ করে দেয় এবং জমির মালিকানা বুঝিয়েন কাইয়ূম মোল্লা প্রবাসী কিরনকে সরল বিস্বাসে টাকা দিয়ে জমি বুঝে নিয়ে নিশ্চিতে চলে যায়।

কিছু দিন পর কিরন তার ক্রয় কৃত উক্ত জমিটি বিক্রি করতে চাইলে কাইয়ুম মোল্লা নিজেই বিক্রয় করে দিবে বলে শর্ত দেয় যে কাইয়ুম মোল্লার নামে ষ্টাম্পে উক্ত জমির বিক্রির বায়না লিখে দিতে হবে, পরে উক্ত জমি কাইয়ুম মোল্লা অন্যত্র বিক্রি করে কিরনকে টাকা বুঝিয়ে দিবে। সরল বিশ্বাসে কিরন বায়না করা না লিখা সাদা ষ্টেম্পে কোন নগদ টাকা না পেয়ে কাইয়ুম মোল্লার নিকট জমি বিক্রি করবে বলে মৌখিক ১ মাসের মেয়াদে একটি সাদা ষ্টেম্পে সহি স্বাক্ষর করে।

উক্ত ষ্টেম্পের এক জন সাক্ষী আনোয়ার হোসেন আনু। কিছু দিন পর কিরন কাইয়ুম মোল্লাকে দ্রুত জমি বিক্রি করে টাকা দিতে বললে কাইয়ুম মোল্লা কিরনকে বলেন আপনার ক্রয় কৃত উক্ত জমির মালিক আপনি না তখন কিরনের মাথায় আকাশ ভেঙে পরার মত অবস্থা হয়ে হাউমাউ করে কেদেঁ উঠে বলে আপনি জমি কিনে দিলেন এখন বলেন জমি আমার না,আমার বলে কেন জানতে চাইলে কাইয়ুম মোল্লা বলেন, এই জমি এজাজের নয় এই জমি এজাজের মায়ের এজাজের মা দলিল আপনার নামে দলিল দিলে আপনি মালিক হবেন, পরে আমি অন্যত্র বিক্রি করে টাকা দেব তখন কিরন বুঝতে পারে কাইয়ুম মোল্লার মাধ্যমে জমি ক্রয় করে সে প্রতারণা স্বীকার হয়েছে।

এ অবস্থায় কাইয়ুম মোল্লা নামে অলিখিত সাদা ষ্টেম্পটি কাইয়ুম মোল্লা নিকট থেকে যায়।পরবর্তীতে কিরন উপায় না পেয়ে আনোয়ার হোসেন আনুর নিকট সব খুলে বলে, অানুর সরাপন্ন হলে ঝামেলা না করে আনোয়ার হোসেন আনু পরামর্শে পুনরায় আবার টাকা দিয়ে এজাজের মায়ের নিকট থেকে জমি ক্রয় করে।বিগত বছর গুলিতে কিরনের স্বাক্ষর কৃত ঐ ষ্টেম্পের ব্যপারে কাইয়ুম মোল্লা কারো নিকট কোন অভিযোগ করেনি। এজাজের মায়ের নিকট থেকে পুনরায় ক্রয় করা জমি কিরন অন্যত্র বিক্রি করবে বলে,এখবর কাইয়ুম মোল্লা জানতে পেরে সুযোগ বুঝে কিরন এর নিকট টাকা পাবে বলে প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করলে, কয়েক দিন আগে কিরনকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে, মানবাধিকার সংগঠন এর সভাপতি হিসেবে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে আপোষ মিমাংসা বৈঠক বসবে বলে কথা দিয়ে আনোয়ার হোসেন আনুর জিম্মায় কিরনকে ছাড়িয়ে আনার পর থেকেই কাইয়ুম মোল্লা আনোয়ার হোসেন আনুর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়।

পরে গত মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) কিরন এজাজের মায়ের নিকট থেকে ক্রয়কৃত জমিটি পরেশ ঘোষ এর নিকট বিক্রি করার জন্য পলাশ উপজেলার রেজেষ্ট্রি অফিসে যায়। কিরন,পরেশ ঘোষ ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের নিরাপত্তার জন্য এবং দলিলের সাক্ষীর জন্য, আনোয়ার হোসেন আনু, ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল ও সকাল সন্ধ্যা সুপার মার্কেটের সভাপতি মোঃ জুলহাস মিয়া এবং ব্যাবসায়ী আজিজুল সহ অনেককে সাথে নিয়ে যায়। উপস্থিত অনেক দলিল লেখক সহ আনোয়ার হোসেন আনুর সাথে থাকা জমির ক্রেতা, বিক্রেতা সবার সামনেই কাইয়ুম মোল্লা দলিল লেখকদের কার্যালায়ে আনোয়ার হোসেন আনুর গলাকেটে হত্যার হুমকি ধমকি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আনুর উপর কাইয়ুম মোল্লা চওড়া হলে উপস্থিত সবার সহায়তায় তিনি অক্ষত আছেন বলে অনেকই জানান।ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন যাহারা সবাই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

কাইয়ুম মোল্লার বিরুদ্ধে জমি বিক্রির নামে আরো অনেক প্রতারণার অভিযোগ করেন সকাল সন্ধ্যা সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী এবং নতুন নতুন গড়ে উঠা ঘর বাড়ির মালিকরা প্রায় ৩০ বছর ধরে কাইয়ুম মোল্লা এ এলাকায় জমির দালাল হিসেবে বেশ পরিচিত। এ এলাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজন জমি ক্রয় করে বাড়ি ঘর করা প্রায় অনেক লোকই কাইয়ুম মোল্লার মাধ্যমে জমি ক্রয় করে প্রতারিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ইচ্ছা করে বেশী বেশী টাকা কামানোর জন্য নিরিহ সরল অন্য এলাকা থেকে আসা দূর্বল লোকদের নিকট দাগ নাম্বার ভুল করে জাল দলিল করে এক জমি বিক্রি করে দুই তিন বার টাকা এক এক জনের নিকট থেকে টাকা নেয়ার অসংখ্য অভিযোগ করেন এলাকার জনগন।

একজনের জমি অন্য জনকে, অন্যজনের জমি আরেক জন কে, পর্চা,নকসা ভুল করে, দলিল করিয়ে দিয়ে রাতা রাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন কাইয়ুম মোল্লা। কাইয়ুম মোল্লা অন্য এলাকা থেকে এসে এক সময় মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কালের বিবর্তনে এ এলাকার খালি পড়ে থাকা বিশাল বিশাল জমির মালিকদের ফরমায়েশ করে মন জয় করে তাদের জমি বিক্রি করার দালানীর দায়িত্ব পালন করে বহু সহজ সরল বিস্বাস এর লোকজন কে জমি ক্রয় করে দেবার নাম করে প্রতারণা করে অনেকেই সর্বশান্ত করেছেন কাইয়ুম মোল্লা।

সকাল সন্ধ্যা সুপার মার্কের বাসিন্দা প্রবাসী সাইফুল, আইসক্রিম ফ্যাক্টীরির মালিক মৃত আইয়ুব মিয়া, মোদী দোকানদার কামাল, সহ অনেকেই ভুক্তভোগী হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকা বাসী। শেষে সকল সন্ধ্যা সুপার মার্কেটের গন টয়লেট পর্যন্ত বিক্রি করার অভিযোগ করেন এলাকা বাসী।

এব্যাপারে অভিযুক্ত কাইয়ুমের সাথে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টার একপর্যায়ে ফোন রিসিভ করলে তিনি জানান, অভিযোগের ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা।

আরও খবর

আরো খবর