1. jagonewsnarsingdi@gmail.com : nurchan :
শুক্রবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ সকাল ৭:২৫

নরসিংদীতে সোনালি আঁশের ন্যায্যমূল্যে কৃষকের মুখে হাসি

  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১
  • ৭৬ বার

নূরুল ইসলাম নূরচান

নরসিংদীতে এবার পাটের দাম বেশি থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। আবহাওয়া অনুকূল ও বন্যা না হওয়ার ফলে পাটে বাম্পার ফলন পেয়েছেন চাষিরা। তবে কোথাও কোথাও পানি সংকটে এখনো পাট পচাতে পারছেন না কিছু কৃষক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নরসিংদীর উপপরিচালক শোভন কুমার ধর জানান. পাটের বাম্পার ফলন হওয়ায় এবার চাষিরা বেশ লাভবান হবেন। পাট বিক্রি করে রোপা আমনের জন্য বাড়তি দুই পয়সা ঘরে তুলতে পারবেন তারা। সব মিলিয়ে পাটের ন্যায্যমূল্য পাবেন চাষিরা- এমনটাই প্রত্যাশা সবার। তিনি আরো বলেন, অনুকূল পরিবেশ আর বীজের সহজলভ্যতার কারণে এবার জেলায় ২ হাজার ২৭ হেক্টর জমিতে দেশি তোষা, কেনাফ ও মেন্তা জাতের পাটের চাষ হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব পাট বিক্রি হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাটকলগুলোয়। দাম বেশি থাকায় চাষিরা পাট কেটে আঁশ ছাড়ানোর জন্য জাগ দিতে মহাব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কের দুই পাশে ডোবানালায় চোখে পড়ে পাট জাগ দেওয়ার কষ্টের চিত্র। আবার অনেক জায়গায় সড়কের দুই পাশে নারী ও পুরুষকে পাট শুকানোর কাজ করতেও দেখা যায়।

পাট চাষে পরিশ্রম কম। খরচ কম। এবার বাজারে ভালো দামও পাচ্ছেন পাটচাষিরা। বাজারে পণ্যটির ভালো দাম পাওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। তবে বন্যা ও বৃষ্টি কম থাকায় পাট জাগ দিতে এবার কিছুটা বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাট চাষ করে তিন মাসের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। কম সময়ে, কম পরিশ্রমের ফসল পাট। প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ১০-১২ মণ পাট উৎপাদন হয়। এবার বাজারে পাটের মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এবার বন্যা না হওয়ায় পাটের কোনো ক্ষতি হয়নি। পাট চাষের খরচ বাদ দিলে ভালো লাভ পেয়েছেন চাষিরা। পাটের ভালো ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি মনোহরদী বাজারে পাট বিক্রি করতে আসা প্রত্যেক চাষি।

বিভিন্ন এলাকার চাষিরা পাট বিক্রি করতে আসেন। পাটের মান ভালো হওয়ায় বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এ অঞ্চলে পাট কিনতে আসেন। হাটে ৫ শতাধিক চাষি পণ্যটি বিক্রি করতে আসেন। প্রতি হাটে আড়াই হাজার থেকে ৫ হাজার মণ পাট বিক্রি হয়। পাটচাষি আবুল কাশেম জানান, সোয়া ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। ওই জমিতে ১৮ মণ পাট হয়েছে। প্রতি মণ ২ হাজার ৯০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এতে তার খরচ বাদে ৩৭ হাজার ২০০ টাকা লাভ হয়েছে। পাট বিক্রি করে খুব খুশি তিনি। বাজারে আসা পাট ব্যবসায়ী মাজেদুল ইসলাম জানান, নরসিংদী অঞ্চলের পাটের মান ভালো।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
আরো খবর.
© জাগো নরসিংদী ২৪ আইটি সহায়তাঃ সাব্বির আইটি
Customized By BlogTheme