খোলা মত

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের করণীয়

  জাগো নরসিংদী ২৯ জুলাই ২০২১ , ৬:৪৮:পূর্বাহ্ণ অনলাইন সংস্করণ

প্রফেসর কালাম মাহমুদ

আমাদের পরামর্শগুলো সরকারের কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছবে বলে আশা রাখি।
১. কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধান মানার জন্য জনগণকে বাধ্য করা।

২. করোনা কী এবং স্বাস্থ্যবিধান কী তা বোঝানোর জন্য শহর ও গ্রামের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত গঠনমূলক প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৩. টিকা গ্রহণের জন্য জনগণকে প্রভাবিত করা, উন্নত দেশের মতো গ্রামে, শহরে, বন্দরে, বাজারে, রাস্তাঘাটে বিনামূল্যে জনগণকে টিকা প্রদান এবং সনদপত্র প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া।

৪. করোনার মূল উপসর্গগুলো কী, রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা কীভাবে করতে হবে সে সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা প্রদান।

৫. চিকিৎসার ক্ষেত্রটি কেবল শহরে সীমাবদ্ধ না রেখে যতদূর সম্ভব গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত প্রসারিত করা।

৬. কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে সকল প্রতিষ্ঠান, বন্দর, বাজার, শিল্পকারখানাসহ সমস্ত যোগাযোগ ও মেলামেশা অন্তত ১৪ দিন বন্ধ রাখা; আংশিক লকডাউন না দেয়া।

৭. কেবল পুলিশ, মিলিটারি বা সরকারী ব্যবস্থাপনা নয় এই বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সমাজের মানুষকে সম্পৃক্ত করে করোনা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা। এ ক্ষেত্রে সমাজের সুধীজন, সরকারি কর্মচারি, শিক্ষক, রাজনীতিক কর্মী ও নেতা, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, সাংবাদিক, ছাত্র-ছাত্রী প্রমুখ ব্যক্তিদের সংযুক্ত করা। তাদের আবশ্যিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

৮. গ্রাম ও শহরের মানুষকে করোনা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার জন্য গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ব্যাপক প্রচারণা করা। যদ্দূর সম্ভব মাস্ক, ঔষধপত্র, চিকিৎসা ও পরিচর্যা সামগ্রী সরবরাহ করা। ৯. অবিলম্বে গ্রাম ও শহর পর্যায়ে জ্বর, সর্দিকাশি, শরীরব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ডাইরিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।
১০. ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

১১. গ্রামপর্যায়ে রোগী অনুসন্ধান ও প্রাথমিক চিকিৎসায় সহায়তার জন্য তদারকী টিম গঠন। শনাক্তকৃত রোগীদের পৃথক করা।
১২. জাতীয় পর্যায়ে জনসংখ্যা অনুপাতে পর্যাপ্ত টিকা, ওষুধপত্র, চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যবস্থা করা।
১৩. ১০০% নাগরিককে অবিলম্বে টিকাদান কর্মসূচিতে এনে টিকা প্রদান করা।

১৪. কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বেতন-ভাতাদি বাবদ প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান প্রদান। গরিব, অসহায়, রোগগ্রস্ত, প্রান্তিক আয়ের নাগরিকদের পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধপত্র, জীবনধারণের আবশ্যিক উপকরণ বিনামূল্যে সরবরাহ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ধনিক শ্রেণি, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, সমাজসেবক, দানশীল ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা।

১৫. শক্তভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা।

১৬. চিকিৎসাক্ষেত্রকে বহুলাংশে সম্প্রসারণ করা। আরো অন্তত চারগুণ বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুব্যবস্থা করা, রোগ অনুসারে প্রত্যেক নাগরিককে চিকিসৎসা পাওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ প্রদান। জনভোগান্তি দূর করা।

১৭. এই জাতীয় দুর্যোগে জাতীয় সেনাবাহিনীকে গ্রামপর্যায় পর্যন্ত তদারকি কার্যক্রমে যুক্ত করা।

১৮. সরকারি পর্যায়ে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে দায়িত্ব প্রদান করা।

১৯. বন্দরে, বাজারে, রাস্তার মোড়ে, সেবাকেন্দ্রে, অফিসে, স্কুল প্রাঙ্গণে করোনাবিষয়ক তথ্য প্রচারের ব্যবস্থা।

২০. উন্মুক্ত টিকা প্রদানে সরকারি হাসপাতাল, নির্বাচিত বেসরকারি হাসপাতাল, সেবাকেন্দ্র, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ অফিস, স্কুল-কলেজ, মাতৃকেন্দ্র ইত্যাদি স্থানে ভোটার তালিকা মোতাবেক রুটিন অনুসারে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা যায়।

২১. বর্তমানে গ্রামপর্যায়ে জ্বর, ঠাণ্ডা, শরীরব্যথা, ফুসফুসসমস্যা ইত্যাদি উপসর্গ নিয়ে বহুলোক মারা যাচ্ছে। তাদের মৃত্যুর কারণ অনতিবিলম্বে নির্ণয় করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং মৃত্যুতালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা।
লেখক।