1. jagonewsnarsingdi@gmail.com : nurchan :
শুক্রবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ সকাল ৭:৩৫

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বাংলাদেশের বেদনাদায়ক পরাজয়

  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১
  • ৯৪ বার

নূরুদ্দীন দরজী

আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ২৯ অক্টোবর ২০২১ তারিখের খেলায় বাংলাদেশের পরাজয় বড়‌ই বেদনাদায়ক। শুধুই পরাজয় নয় স্বপ্নভঙ্গের পরাজয়। শিরোপা জয়ের স্বপ্ন এ পরাজয়ে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তুমুল প্রতিদ্বন্দিতা গড়ে তুলা সত্বেও আমরা হেরে গেছি মাত্র ৩ রানে। খেলায় জয়-পরাজয় আছেই। একবার হেরে অন্যবার জিতবে,একবার জিতে অন্যবার হারবে এটাই স্বাভাবিক। এ কথাটি আমরা জানি ও মানি। কিন্তু তবু কেন জানি মনের গভীরে চিন চিন করে অদেখা ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে। ঐ হারকে কেন্দ্র করে পরের দিনে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বেদনা ভরা লেখা ও মন্তব্যগুলো বড়‌ই স্পর্শ কাতর। ফেসবুকে মানুষ কাতর কন্ঠে তাদের অন্তরের নিবু নিবু কষ্টের কথা ব্যক্ত করেছেন। যে সমস্ত সচেতন বাঙালি বিদেশে রয়েছেন তাদের মনের আকুতি নিতান্ত‌ই হতাশাব্যঞ্জক। বাঙালি তাদের দেশকে কত যে ভালোবেসে বিদেশে বসবাসকারীদের বক্তব্য/মন্তব্য পড়লে স্পষ্ট বুঝা যায়।

আসলেই বিদেশে যারা যায়নি তারা কখনো দেশের ভালোবাসার কথা ততটা বুঝতে পারে না। বিদেশের মাটিতে অবস্হান করলে দেশের মাটি যেন তাদের খুঁজে বেড়ায়। তাদের আত্ম-মনে দেশের মাটির সুর বার বার বেজে উঠে। শয়নে, স্বপনে ও জাগরণে শুধু দেশের কথা মনে পড়ে। দেশের মঙ্গলে তাদের শির উচুঁ হয়ে আকাশ ছোঁয়। আবার দেশের কোন দুঃখ-বেদনা ও পরাজয়ের গ্লানিতে অন্তরের তন্দ্রীগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। যে মাটিতে তারা জন্ম গ্ৰহণ করেছে শরীরে সর্বক্ষণ সে মাটি কথা কয়। পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাঙালি আছে তাদের সার্বক্ষনিক দৃষ্টি নিজের দেশ বাংলাদেশের দিকে। শুনেছি বাংলাদেশের সাথে যখন ভারতের ম্যাচ হয় তখন কলকাতায় বসবাসকারী অধিকাংশ বাঙালি বাংলাদেশকে সমর্থন করে। তাদের মাটির টান অনুভূত হয়।

উল্লেখ্য যে, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের আগে অনেক বাঙালি এ দেশে তাদের ভিটা-মাটি ছেড়ে ভারতে গেছেন। আবার কেউ কেউ সে দেশ ছেড়ে এ দেশে এসেছেন। যারা তখন ছেড়ে গিয়েছেন এ দেশের মাটির গন্ধ তাদের শরীরে এখনো লেগে আছে। এখনো তারা বাংলাদেশের জয়ে হাসে,পরাজয়ে কাঁদে। কয় দিন পূর্বে পত্রিকায় পড়েছিলাম,বাংলাদেশ থেকে একজন কলকাতায় আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে যায়। যাওয়ার সময় ওখানে বসবাসকারী এক মহিলা আত্মীয়ের অনুরোধে ছেড়ে যাওয়ার এখানে বাড়ি ছিল তার সামান্য মাটি নিয়ে গিয়েছেন। যার জন্য মাটি নেওয়া তিনি নাকি পূজার ঘরে এ মাটি রেখে পূজা করেন। জন্ম গ্ৰহণ করা মাটির প্রতি মানুষের কতটা নাড়ীর আর্কষণ থাকলে এমন করতে পারে। এমন অনেক উদাহরণ আছে মানুষের মাতৃভুমির জন্য।

দিল্লিতে মোঘলরা এসেছিল গায়ের জারে। কিন্তু এক সময় তারা এ দেশকে ভালোবেসে ফেলে। বণিক হয়ে ও ভারতের মাটিকে ভালোবেসে এখানে থেকে যায়। এ দেশের মাটির সাথে মিশে যায়,আর এ জন্য‌ই ভারতের মানুষ এখনো তাদের স্মরণ করে। তাদের শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজদের দ্বারা তাড়িত হয়ে বার্মায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি মৃত্যু বরণ করেন ও ওখানেই তাঁর সমাধি রয়েছে। দেশ ছেড়ে বার্মা যাওয়ার মুহূর্তে অগোচরে তিনি এ দেশ থেকে ছোট এক ব্যাগে করে কিছু মাটি নিয়ে গিয়ছিলেন। সভাসদদের অনুরোধ করেছিলেন মৃত্যুর পর যেন সে মাটি তাঁর কবরে দেওয়া হয়।

এমন অনেক উদাহরণ আছে দেশপ্রেমের। মানুষের জন্য দেশপ্রেমের চেয়ে বড় আর কিছুই হতে পারে না। যদিও মানুষ দুটি কারণে বেশি বেশি আত্মহুতি দেয় -একটি মানবপ্রেম ও অন্যটি দেশপ্রেম। তবে দেশপ্রেমের জন্য যে পরিমাণে আত্মহুতি দেওয়া অন্য কিছুতে তেমন নয়। সবকিছুর আগে দেশের ভালো সবাই চায় । আর এ জন্য‌ই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে সামান্য ব্যবধানে আমাদের প্রতিটি বাঙালি হৃদয়ে ব্যথার ঝংকার। কিন্ত এ হতাশা নিয়ে বসে থাকলে ও চলবেনা। এ পরাজয়ের ভিত্তিতেই আমাগী দিনে আসবে অনেক বড় বিজয়। আমাদের ক্রিকেট আমাদের দিয়েছে অনেক, হাসিয়েছে বহুবার। আমরা হাসবো আবার,আমরা আনবো জয় এবং আমরা করবো জয় এ প্রত্যাশায় টাইগারদের উদ্দেশ্যে কয়েক লাইন কবিতায় লেখাটি শেষ করছি।

টাইগার! টাইগার !! টাইগার !!!
বাংলার রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
গর্জনে কাঁপে বিশ্ব,অবাক তাকিয়ে রয়,
সাবাশ ধ্বনিতে সবাই মুখরিত হয়।
জন্ম-জন্মান্তরে গর্জিবে টাইগার,
জাগিয়া উঠিবে প্রাণের তরে প্রাণ
বাংলার রয়েল বেঙ্গল টাইগার,
বিশ্ব গাহে তাদের জয়গান।

লেখকঃ সাবেক উপজেলা শিক্ষা অফিসার (টিইও)

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
আরো খবর.
© জাগো নরসিংদী ২৪ আইটি সহায়তাঃ সাব্বির আইটি
Customized By BlogTheme