1. jagonewsnarsingdi@gmail.com : nurchan :
সোমবার ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ দুপুর ১:৫৭

গরিবের আমিষ ডিমের দামও চড়া!

  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১১৩ বার

নূরুল ইসলাম নূরচান

চাল, ডাল, তেল,চিনি ও আটার পর এবার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম। গরিবের আমিষ খ্যাত ডিম আর ব্রয়লার মুরগির মাংস তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নরসিংদীর হাটবাজারে অনেক আগেই সেঞ্চুরি হাঁকানো মুরগির ডিমের ডজন গত বুধবার ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৩৫ টাকা, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ১১৫ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ১০৫-১১০ টাকা। আমদানি করা মোটা ডালের কেজি এখন ৯০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ৭০-৮০ টাকা। ফলে মন চাইলেই বাজার থেকে এক হালি ডিম, এক কেজি মুরগি কিংবা এক কেজি ডাল এনে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমিষের ঘাটতি মেটাতে পারছেন না দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। এসব সহজলভ্য আর কম দামি আমিষ কিনতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেকের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুরগির খাবারের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। পোলট্রিতে প্রায় সব ধরনের খরচ বেড়েছে। ফলে বাড়ছে ডিম ও মুরগির দাম। এ ছাড়া সম্প্রতি দেশের বাজারে সয়াবিনের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। আবার দেশ থেকে পাশের দেশে সয়াবিন চলে যাচ্ছে। আর এ সয়াবিন হচ্ছে পোলট্রির খাবার প্রস্তুতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ফলে পোলট্রি খামারে ব্যবহৃত খাবারের দাম বেড়েছে। এটি ডিম ও মাংসের উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে। ফলে ডিম ও মুরগির মাংসের দামও বেড়েছে। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

আমিনুর রহমান। বয়স ৩০। গ্রামের বাড়ি মনোহরদী উপজেলায়। নরসিংদীর ভেলানগর এলাকায় রিকশা চালান প্রায় তিন বছর। গ্যারেজেই থাকেন। সেখানেই রাতের খাবার খান। আর সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার টংদোকানের ভুনা ডিম খিচুড়ি। দুই বেলায় ডিম খিচুড়ি কিংবা ডিম ডাল ভাত খেতেন ৬০-৭০ টাকায়। এখন একই রকম খাবার খেতে খরচ হয় ৮০ টাকা। অবশ্য ডাল না খেলে ৭০ টাকায় খেতে পারেন। প্রায় ১০ দিন ধরে দুই বেলার পরিবর্তে এক বেলা ডিম খাচ্ছেন। আর গ্যারেজের মেসে রাতে বয়লার মুরগির মাংস খেতেন। দাম বেড়ে যাওয়ায় তা খাচ্ছেন এক দিন পর পর। এতে তার কিছু সাশ্রয় হচ্ছে, যা গ্রামে থাকা স্ত্রী-সন্তানের জন্য পাঠিয়ে দেন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে।

অটোরিকশাচালক খোকন মিয়া।  ঘর ভাড়া করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন। স্ত্রী ঝিয়ের কাজ করেন অন্যের বাড়িতে। মাঝেমধ্যে সকালে স্কুলগামী দুই মেয়েকে সেদ্ধ ডিম খাওয়াতেন। করোনার কারণে তার আয় কমে গেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ডিম ও মুরগির দাম। ফলে মেয়েদের আলাদাভাবে আর ডিম খাওয়াতে পারছেন না। সরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান টিসিবির হিসাবেই এক মাসের ব্যবধানে প্রতি হালি ডিমের দাম বেড়েছে ৭ টাকার বেশি। অর্থাৎ এক মাসে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে অন্তত ২১ টাকা। একইভাবে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১১ টাকা। টিসিবির ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, গত বুধবার প্রতি কেজি মোটা ডাল বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ৮০ টাকা। আর গত বছর একই সময়ে এ ডালের দাম ছিল ৬৫ টাকা। শুধু তাই নয়, গতকাল এক লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকায়, যা এক বছর আগের এই দিনে ছিল ৮৮ টাকা। সে হিসাবে এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম এক বছরে বেড়েছে ৫৫ টাকা। আর এক মাসে বেড়েছে অন্তত ১০ টাকা। এ তো গেল সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবির হিসাব। বাস্তব চিত্রে বাজারের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কেননা কেজি বা ডজনের চেয়ে পরিমাণে কম কিনতে গেলে দাম পড়ে আরও বেশি।

জানা গেছে, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, সুস্থ থাকার জন্য প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের বছরে গড়ে অন্তত ২০০ ডিম খাওয়া প্রয়োজন। তবে দেশে মানুষ বছরে গড়ে ১০৫টি ডিম খাচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে এ হার আরও কম। তবে করোনার কারণে ডিমের চাহিদা বেড়েছে। উন্নত বিশ্বের মানুষ বছরে জনপ্রতি গড়ে ৩৬০ থেকে ৩৮০টি ডিম ভোগ করেন। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে প্রতিদিন মুরগি, হাঁস, কবুতর ও কোয়েলের প্রায় পৌনে ৫ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়। পৃথক হিসাবে কেবল মুরগির ডিম উৎপাদিত হয় সাড়ে ৩ থেকে ৪ কোটি। বছরে একজন মানুষের ডিমের চাহিদা কমপক্ষে ১০৫টি। দেশের ১৬ কোটি ৬৬ লাখ জনসংখ্যার হিসাব ধরে চাহিদা অনুযায়ী যে পরিমাণ ডিম প্রয়োজন, এর প্রায় সবটুকুই উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে দেশে। বছরে মাথাপিছু ১০৪টি ধরে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ডিমের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৭৩২ কোটি পিস। চাহিদার বিপরীতে ডিম উৎপাদিত হয়েছে ১ হাজার ৭১১ কোটি পিস। নরসিংদীর কয়েকজন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ভোক্তা বললেন, ‘আমরা এখন কি খাব, কি করবো! বুঝতে পারছিনা। প্রতিদিনই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। দ্রব্যমূল্যের দামের তুলনায় রুজি রোজগার বাড়ছে না।’

শেয়ার করুন
  • 45
  •  
  •  
  •  
  •  
    45
    Shares
আরো খবর.
© জাগো নরসিংদী ২৪ আইটি সহায়তাঃ সাব্বির আইটি
Customized By BlogTheme